
কলকাতা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার মহাজাতি সদন অ্যানেক্স সেমিনার হলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে কর্ণাটকের প্রখ্যাত কবি, চিন্তাবিদ, সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের সক্রিয় মুখ নাগাতিহল্লি রমেশকে আজ প্রদান করা হলো মর্যাদাপূর্ণ ‘গঙ্গা–কাবেরী ওশান অ্যান্ড আর্থ কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ইউনাইটেড জার্নালিস্টস ফোরাম, আনন্দ বাহার এবং ইউনিভার্সাল সোল ট্রি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্য, পরিবেশ সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং সমাজকল্যাণে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।
গঙ্গা ও কাবেরী নদীর পবিত্র জল দিয়ে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রকৃতি, নদী ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুই পবিত্র নদী, এক মহাসাগর, এক পৃথিবী, এক দায়িত্ব।’ আয়োজকদের মতে, গঙ্গা ও কাবেরী ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পরিবেশগত ঐক্যের প্রতীক, আর সেই দর্শনকেই এই আন্তর্জাতিক সম্মান বহন করছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নাগাতিহল্লি রমেশ তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, বক্তৃতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নদী, সমুদ্র, কৃষিজীবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহমর্মিতার পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর কবিতায় জল, বন, পাখি, কৃষক ও প্রকৃতি কেবল সাহিত্যিক উপাদান নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য সত্য হিসেবে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে তাঁর সাম্প্রতিক কবিতা ‘গঙ্গা–কাবেরী’ বাংলায় আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তিকার শুভ্রত হাইত, যা উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, পরিবেশবিদ, সমাজকর্মী এবং দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
আয়োজকদের মতে, এই সম্মান কেবল একজন কবির কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং নদী, প্রকৃতি ও মানবতার প্রতি বিশ্বব্যাপী দায়বদ্ধতার এক অনন্য প্রতীক।